ACE67: নানা মুখ! স্পেনের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন: ফেরানের উল্লাস
2026-07-21 · তথ্য
২০ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা পুরুষ ফুটবল দলের মুখোমুখি হয় স্পেন। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে গোল করে স্পেন ১-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ১৬ বছর পর আবার চ্যাম্পিয়ন হয়।
সেমিফাইনালে স্পেন ২-০ গোলে জিতে ১৬ বছর পর আবার বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছায়। ২০১০ সালে প্রথমবার ফাইনালে উঠেই তারা দলের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল। আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে ইংল্যান্ডকে উল্টে হারিয়ে টানা দুই বিশ্বকাপে ফাইনালে ওঠে—এটি তাদের সপ্তম ফাইনাল; আগের ছয়বারে তিনবার চ্যাম্পিয়ন ও তিনবার রানার্সআপ হয়েছিল।
স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ইতিহাসে ১৪টি ম্যাচ হয়েছে—৬ জয়, ২ ড্র, ৬ হার; প্রায় সমান। তবে বেশিরভাগই বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচ। একমাত্র বিশ্বকাপ মুখোমুখি হয়েছিল ১৯৬৬ সালের গ্রুপ পর্বে, যেখানে স্পেন ১-২ গোলে আর্জেন্টিনার কাছে হেরেছিল। এর আগের ইউরোপ-আমেরিকা কাপ বাতিল হয়েছিল।
ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার জন্য একটা ভালো খবর ছিল—ইংল্যান্ড ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান পাওয়ার পর বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নিয়মও আর্জেন্টিনার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দিকে ঝুঁকেছিল। কারণ গত আট বিশ্বকাপে সাতবারই তৃতীয় স্থানধারী দল সেমিফাইনালে শেষ চ্যাম্পিয়নের কাছে হেরেছিল।
তবে স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা মাঠের দখল হারায়। প্রথমার্ধে তাদের বল দখলের হার মাত্র ৩৫ শতাংশ; বল পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে—এ বিশ্বকাপে এমন অভিজ্ঞতা তাদের প্রথম।
আরও অবিশ্বাস্য বিষয়, প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার একটিও শট ছিল না। মেসিসহ কেউই গোলের সুযোগ পাননি; স্পেনের পেনাল্টি এলাকায় একটিও স্পর্শ হয়নি। স্পেনের আক্রমণের চাপ এত তীব্র ছিল যে পুরো দল বেশিরভাগ সময় শুধু প্রতিরক্ষায় ব্যস্ত ছিল।
এতে আর্জেন্টিনা দুটি বিব্রতকর রেকর্ড গড়ে—বিশ্বকাপ ফাইনাল ইতিহাসে প্রথমার্ধে শটশূন্য থাকা দ্বিতীয় দল; এবং ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচে শটশূন্য থাকে।
দ্বিতীয়ার্ধেও আর্জেন্টিনার আক্রমণের উন্নতি হয়নি; মেসি প্রায় বলই পাননি। আরও ধাক্কা আসে—৭০তম মিনিটে রোমেরো আহত হয়ে মাঠ ছাড়েন; প্রথমার্ধে লিমাও আহত হয়েছিলেন। দুই মূল সেন্টার ব্যাক পরপর মাঠ ছাড়ায় প্রতিরক্ষার চাপ বেড়ে যায়। তাই আর্জেন্টিনা তাড়াতাড়ি পাঁচটি বদলি শেষ করে ফেলে—অর্থাৎ লউতারো নিয়মিত সময়ে বদলি হয়ে নামতে পারেননি, শুধু অতিরিক্ত সময়ের আশায় থাকতে হয়।
এমন পিছিয়ে পড়া পরিস্থিতিতে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের নয়টি সেভে আর্জেন্টিনা ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায়। তবে এনজোর দুই হলুদ কার্ডে লাল হওয়ায় তাদের একজন কম খেলতে হয়।
অতিরিক্ত সময়ে ফেরানের গোলে স্পেন ১-০ গোলে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়।

ম্যাচ শেষে দুই দলের আনন্দ-বেদনা একেবারে উল্টো। স্পেন দল উত্তেজিত হয়ে জড়িয়ে ধরে; গোলদাতা ফেরান উল্লাসে মেতে ওঠেন। অন্যদিকে ইয়ামালের মন শান্ত, খুবই সংযত। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মুখে গভীর হতাশা—মেসিরও মুখে তিক্ত হাসি।






শেষ আপডেট: 2026-07-21 16:58
বাংলা তথ্য[0]

বাংলা তথ্য[0]